Skip to main content

এটা কোন গল্প নয়

[এটা কোন গল্প নয় ।কারো কাছে গল্প গল্প মনে হলে সেখানেই থামুন আর এগুবেন না ।আপনার মূল্যবান সময় ও মেজাজ নষ্ট হোক আমি তা চাই না ]

ক্লাশ যখন শেষ আমরা একে অপরের দিকে মুখোমুখি হয়ে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি ।এরকম বিষন্ন পরিবেশের প্রধান কারণটা আমি ,আমার চলে যাওয়া ।আমার মা বাংলাদেশে থাকেন ।মা চাচ্ছেন আমি বাংলাদেশে থেকে পড়াশুনা করি ,বাংলাদেশী মুসলিম পরিবেশে বড় হই ,কলকাতাবাসীর মত "কিচ্ছু"কে "কিস্সু" না বলি।তাই কলকাতার এই হেয়ার স্কুলে থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না ।চলে যাবার মোটামুটি সব ব্যবস্থা পাকা ।
এই কথাগুলো বলার পর থেকেই ওকে আর চিনতে পারছি না ।ও যেন আর আগের ও নেই ।কাল থেকে আমার সাথে কোন কথা বলছে না ,ফোন ধরছে না ।প্রথম প্রথম আমি প্রচন্ড রকমের অভিমান করেছিলাম "হু আমিও কথা বলব না দেখি কে আগে কথা বলে"।শেষে বুঝলাম ও আসলে কারও সাথেই কথা বলছে না ।আমার কথায় ও এতটা শক্ড হবে আমি বুঝতে পারিনি ।বুঝলে এভাবে বলতাম না ইকটু ভেবে চিন্তে বলতাম ।
আজ আমার হেয়ার স্কুলের শেষদিন । সামনাসামনি দাঁড়িয়ে কতক্ষণ যে নিশ্চুপ আছি জানা নেই ।যেন নীরবতার প্রতিযোগীতায় দুজনে অংশ নিয়েছি আর যেন আমাদের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে কে জেতে কে হারে অবস্থা ।
নীরবতা ভাঙাল ও নিজে ।হঠাত্‍ আমাকে জড়িয়ে ধরে ভেউ ভেউ করে কান্না জুড়ে দিল । এমনিতে আমরা দুজন সবার কাছে ভাল ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচিত, তাই জড়িয়ে ধরায় হয়ত অন্যকেউ তেমন কিছু বিষেশত্ব খুজল না ।কিন্তু আমি বুঝলাম ধরাটাতে অন্যকিছু ছিল ,যেন ওকিছু প্রাণপণে আঁকড়ে ধরতে চাইছে কিন্তু পারছে না ।আমি অনেক বুঝালাম এত কান্নার কি আছে এইতো বর্ডার পার হলেই আমাদের বাড়ি ,যা প্রতিদিন তোর সাথে ফোনে এক ঘন্টা করে কথা বলব ,আরেবাবা আমিতো মরে যাচ্ছি না যে এরকম মরাকান্না কাঁদতে হবে,ছাড় বলছি ছাড় অনেকদিন থেকে তোকে মারি না এবার কিন্তু সত্যি সত্যি মার খাবি । ওকোন কথাই শুনল বলে মনে হলনা ।আরো শক্ত করে জড়িয়ে রাখল ।বুকের মাঝে থেকেই বলল "আমাকে ছেড়ে তুই যাবি না ,যাবি না ,যাবি না,ব্যস " বলে আবার কান্না ।
আরকিছুক্ষণ চেষ্টা করলে হয়ত কান্নাকাটি থামাতে পারতাম কিন্তু ও যখন ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল "I luv u পলাশ আমি তোকে অনেক ভালবাসি তুই আমাকে ছেড়ে যাস না ।তুই ছেড়ে চলে গেলে . . ."বাক্য শেষ করতে পারল না ওর কাঁদার কারণে নিশ্বাস আটকে গেল আর আমি হতভম্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেলাম ।
.
.
.
.
পাঠক এতক্ষণ যা পড়লেন তা আমি এক রাতের স্বপ্নের মাঝে দেখেছিলাম ।ইহা কোন বাস্তব দুনিয়ার বিচ্ছিন্ন ঘটনা নহে ।যেই মেয়েটাকে ও ও বলে সম্বোধন করছিলাম তাকে ইহো জীবনে কখনও দেখিনি সে কিভাবে আমার রাতের স্বপ্নে ঢুকে গেল এবং আমাকে হিরো বানিয়ে নাইকার পার্টটা নিল কোন ভাবেই মাথায় ঢুকছে না ।আর স্বপ্নটা জায়গা পেল না কলকাতায় চলে গেল (অবশ্য ইউরোপ আমেরিকায় এরকম মেয়ে ঘটিত স্বপ্ন হলে ক্লাসের মাঝে কোন অনাসৃষ্টি ঘটলেও ঘটতে পারত ।আমাদের ছেলে সমাজের তো আবার একটা মোটামুটি গোপন সমস্যা আছে :) )।ওহ্যা এটা হুবহু লিখতে পারিনি কারণ স্বপ্নের সবটুকু মনে থাকে না ,মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখতে হয়েছে। এর পরের অংশগুলো আমার খাপছাড়া খাপছাড়া ভাবে মনে আছে ।আমার স্মৃতিশক্তি মোটামুটি দুর্বল ।ভালভাবে মনে না থাকায় বাকিটুকু আর সাজিয়ে লেখার সাহস পেলাম না । এমনিতেই অনেক মাধুরী মিশিয়ে ফেলেছি । আরো মিশিয়ে আপনাদের স্বপ্ন থেকে প্রতারিত করতে চাই না ।
এবার শেষটুকু বলে শেষ করিঃ

সেদিন ওর প্রপোজে আমি ওকে হ্যা না কিছুই বলিনি ।এসব ব্যাপারে হুট করে বলে দেয়ার মত ছেলে আমি না ।তবে থাকতে পারিনি ।ওকে ভালবাসি বলার জন্য ছটফট করতে থাকলাম ।শেষ পর্যন্ত ওর সাথে নির্জনে এক রেলব্রিজের কাছে দেখা করলাম ।ওর মতই আমি ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলাম ওওকাঁদল ,অনেক্ষন নিজের সাথে জড়িয়ে রাখলাম । বললাম , পাগলি আমিও তোকে ভালবাসি ,অনেক অনেক ভালবাসি ,আমিকি তোকে ছেড়ে যেতে পারি আর কাঁদিস না আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি!।ও আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ।আমার বুক ফেটে যাচ্ছিল ভালবাসার তীব্রতায় ,ভালবাসায় এত সুখ !এরপর ওকে নিয়ে এগুতে এগুতে ব্রীজের কাছে গেলাম ।মন খারাপ করা পরিবেশটা আর নেই ।ওআনমনে ব্রীজের পাশের আগাছা গুলোর কাছে আমাকে পেছনে রেখে চলে গেল ।আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ওদের সাথে খেলা শুরু করল।আমি যেন স্বর্গেই চলে এসেছি ।ওর দুষ্টুমি দেখতে এত ভাল লাগছিল বলার মত না ভাবলাম আমিও যাই , সাথে সাথে মনে হল না থাক ও ওর মত করে খেলুক ,উড়ে বেড়াক । আজ ওর খেলার দিন আর আমার দেখার ।আমি প্রাণ ভরে দেখা শুরু করলাম ।কিন্তু প্রাণভরে দেখা হল না ,আমার এক বাস্তব দুনিয়ার বন্ধু (স্বপ্নের মাঝে ওই নির্ঘাত প্রধান শত্রুর পার্টটা নিত) এসে অসময়ে ,কূসময়ে যাই বলেন না কেন আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিল । :(
হয়ত ওকে আর দেখতে পাব না । তবুও ও আমাকে যে ভালবাসার তীব্র অনুভূতিটা দিয়ে গেছে তা কখনই হৃদয় থেকে মুছবে না ।
আজ যেন সবাইকে মাইক ভাড়া করে হলেও জানাতে ইচ্ছা করছে ---
স্বপ্ন
আজ আমি তোমার কাছে পরাজিত ।

Comments

Popular posts from this blog

Bangladeshi Movie Download Sites (বাংলাদেশী মুভি ডাউনলোড)

NEXTGEN BD - http://180.200.238.22/ Orangebd- orangebd home bd http://103.3.226.206/ Bangla Movie Download Sites new bangla movie Bangladeshi movies

Comprehensive List of News Channels and Newspapers in Bangladesh: Contacting the Media Made Easy

Introduction: In a world driven by information, staying connected with the latest news is essential. Whether you're a concerned citizen, a journalist, or a business owner, having direct access to news channels and newspapers can be crucial. To facilitate this connection, we've compiled a comprehensive list of prominent news channels and newspapers in Bangladesh, along with their email addresses for your convenience. **1. News Channels in Bangladesh:** **Somoy News:** - Email: somoydigital@somoynews.tv **Ekattor TV:** - Email: info@ekattor.tv **DBC News:** - Email: news@dbcnews.tv **Channel 24:** - Email: channel24central@gmail.com **News 24:** - Email: info@news24bd.tv **24 Online:** - Email: newstwentyfouronline@gmail.com **ATN News:** - Email: info@atnnewstv.com **Bangla Vision:** - Email: newsroom@banglavision.tv **RTV:** - Email: info@rtvbd.tv **Channel i:** - Email: info@channeli.com.bd **Desh TV:** - Email: web@desh.tv **STV:** - Email: news@stv.tv **Gazi TV:** - Email: i...

এক্সট্রভার্ট ও ইন্ট্রোভার্ট কীভাবে চিনবেন? কেন ইন্ট্রোভার্ট স্বভাবের মানুষদের বৈশিষ্ট্য অন্তর্মুখী হয়?

ধরুন আপনার পরিচিত কেউ সবসময়ই কম কথা বলে। দরকার ছাড়া কথা বলে না। কোনো সামাজিক প্রোগ্রামের যাবার কথা বললে না করে, বিয়েতে যেতে চায় না, ট্যুরে বন্ধুদের সাথে যেতে চায় না। মনে হতে পারে তার কোনো মানসিক রোগ রয়েছে। একাকিত্ব দূর করার উপায় হিসেবে আমরা যখন কোন পরিকল্পনা করছি তখন কোনো এসবে এই অন্তর্মুখী মানুষগুলোর কেন এত অনাগ্রহ? সারা দিন বাসায় একা থাকতে পারে কেউ? এক্সট্রভার্ট ও ইন্ট্রোভার্ট শব্দগুলোর সাথে সম্ভবত পরিচিত আপনি। না থাকলেও সমস্যা নেই। আমরা সামনেই এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। এখন এমন করে কি পাচ্ছে সেই উত্তরটা জেনে নিন। আমাদের প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজে এনার্জি খরচ হয়, আমরা ক্লান্ত হই। রেস্ট নেই মানে এনার্জি আবার ফিরে আসার অপেক্ষা করি। কখনও নেগেটিভ চিন্তা দূর করার উপায় হিসেবেও রেস্ট নেই। যখন স্বাভাবিক লাগে তখন আবার কাজ করি। এখন এই এনার্জি খরচ হবার বিষয়টি মানুষে মানুষে পার্থক্য আছে। কেউ বাইরের অচেনা পরিবেশে সারাদিন কথা বললেও একটুও ক্লান্ত হয় না আবার কেউ শুধু অচেনা কয়েকজনকে ফোনে কিছু বলতে গেলেই হাপিয়ে যায়, মনে হয় বড় কোন কাজ করে ফেলেছে। প্রথম মানুষটা এক্সট্রোভার্ট যার বাইরে মানুষের সাথে মিশল...