Skip to main content

Posts

গবেষণা করে বের করলাম বাংলাদেশে ৭ রকম সাপোর্টারের বসবাস- (মিলিয়ে নিন ঠিক কি না) (মোজাহিদুল ইসলাম পলাশ )

১. যারা বাংলাদেশ সাপোর্ট করে এবং একমাত্র বাংলাদেশকেই সাপোর্ট করে। হাজার জরুরি কাজ ফেলে টিভির সামনে বসে পড়ে বাংলাদেশের খেলা দেখার আশায়। ২.যারা বাংলাদেশ সাপোর্ট করে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ইন্ডিয়াকেও তারা সাপোর্ট দেয়। পাকিস্তান শত্রু তাই নট সাপোর্ট। ৩.যারা বাংলাদেশ সাপোর্ট করে এবং মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই যুক্তিতে পাকিস্তানকেও সাপোর্ট করে। ১৯৭১ সালের কথা উঠলে তাদের ঐতিহাসিক বক্তব্য "খেলার সাথে রাজনীতি মিশাবেন না।" ৪.যারা অল্প অল্প বাংলাদেশ, অল্প অল্প ইন্ডিয়া, অল্প অল্প পাকিস্তান, অল্প অল্প শ্রীলঙ্কা, ইদানিং অল্প অল্প আফগানিস্তানকেও সাপোর্ট করে। তাদের মাঝে আমরা এশিয়া মহাদেশ পিরিতি প্রবল ভাবে দেখতে পাই।তাদের নিষ্পাপ স্টাইলে বক্তব্য হল- বাংলাদেশ জিতুক বা হারুক কিন্তু কাপটা যেনো এশিয়া মহাদেশেই থাকে। ৫.যারা ডাইহার্ড অস্ট্রেলিয়া সাপোর্টার।অনেক বছর থেকে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে নাম্বার ওয়ান হয়ে আসছে।এটাই ভাললাগার কারণ। তাদের চোখে সবসময় অস্ট্রেলীয় মুগ্ধতা থাকে। তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারত যুদ্ধকে বাজে আলোচনায় সময় নষ্ট হিসেবে দেখে। (ফুটবলে এই রোগের প্রকপ বেশি। বাংলাদেশের বেশির ভ...

হেডফোন চরিত (মোজাহিদুল ইসলাম পলাশ )

কেউ আবেগে খিলখিল করে হাসে। কেউ আবেগে মিটমিট করে হাসে। কেউ আবেগে ইমোশনাল হয়। :-P কেউ আবেগে কেঁদে ফেলে। আর আমি, এই আমি, একজন বিশিষ্ট অভাগা, আবেগে স্টাটাস দিয়ে ফেলি।  "নুতুন হেডফুন কিনসি..." স্টাটাসটি বিরাট আবেগের বশবর্তী হয়ে দেয়া। এই আবেগকে হয়ত অনেকে অনেক কিছু মনে করতে পারেন। কেউ আবেগীয় লুলু পুরুষও ভেবে বসতে পারেন। কেউ বাংলাভাষার বিকৃতি বিষয়ক স্টাটাস হিসেবে স্কিনশটও নিয়ে ফেলতে পারেন। যাইহোক, লাইনে আসি, আপনি সারাদিন দৌড়াদৌড়ি, ক্লাশ, ডেটিং ফেটিং শেষে এখন বিরাট ক্লান্ত (রুম ডেটিং করা লুচুরা একটু বেশি ক্লান্ত)। আসেন কিছু সুখদুখের গপসপ করি। গল্পের শুরুটা হয় আমার সনির ইয়ারফোন বন্ধু নির্ঝরকে ধার দেয়ার মধ্য দিয়ে। সেদিন ছিল বর্ষার এক ঝিরঝিরে বৃষ্টির দিন। বন্ধু নির্ঝরের গান শোনার শখ উঠল। আমার কাছ থেকে ইয়ারফোন ধার নিয়ে সে কাথা মুড়ি দিয়ে গান শুনতে লাগল। (ওই ছিল সেই ইয়ারফোনের সাথে আমার শেষ দেখা। :-( :( ) এরপর কেটে গেল কয়েকদিন। ল্যাপটপের গোবদা হেডফোন বের করে গান শোনা শুরু করলাম এরপর থেকে।কিছুদিনপর দেখি একটায় গান বাজে আরেকটায় বাজে না। গোড়ায় সমস্যা।তারের ভেতরে কানেকশন ছিড়ে গেছ...

ঘর পালানো (মোজাহিদুল ইসলাম পলাশ )

তখন বয়স কত হবে ঠিক মনে নেই। আট নয় বছর হতে পারে। সে সময় আমি আর মা ভাড়া বাড়িতে থাকি। আমার একটা ছোট বাচ্চাদের রিকসা ছিল । তখন রিকসা চালানোর বয়স শেষ, তবু যক্ষের ধনের মত রিকসা আগলে রাখি। কেউ চালালে হিংসায় জ্বলেপুড়ে যাই। সাথে সাথে তাকে নামিয়ে রিকসায় উঠে বসে থাকি। চালাতে গেলে হাটু হ্যান্ডেলে লাগে,দেখতে বেখাপ্পা লাগে, তবু বসে থাকি। ঘটনা ঘটল যেদিন বাড়ি ওয়ালার নাতনি আমার স্থাবর সম্পত্তি রিকসাটা নিয়ে টানাটানি শুরু করল। নাতনির বয়স হবে চার বা পাঁচ বছর। আমি ক্রিকেট বাইরে খেলতে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যা নামলে বাসায় ফিরে দেখি আমার রিকসা নিয়ে তাতে বসে আছে মেয়েটা। মাথায় শর্ট সার্কিট হয়ে গেল। রিকসা থেকে ওকে নামতে বলি, মেয়ে নামে না। উল্টা ঘড়ঘড় শব্দ করে ওদের বারান্দায় চালাতে লাগল। সহ্য ক্ষমতা ছাড়িয়ে গেল। আমি পাজকোলা করে ধরে জোর করে রিকসায় নামিয়ে রিকসা দখল করলাম।  ঠিক তখন বোমা ফাটার শব্দের মত শব্দ করে মেয়ে কাঁদতে শুরু করে দিল। আমি ভ্রুক্ষেপ না করে ঘড়ঘড় শব্দ করে ওর নাকের সামনে দিয়ে রিকসা চালিয়ে যেতে লাগলাম। আহা কি শান্তি! ঠিক তখন বাড়ি ওয়ালী যাকে আমিও নানী বলে ...

লালপরীর গল্প (মোজাহিদুল ইসলাম পলাশ )

তোমাকে একটা গল্প শোনাই,  লালপরীর গল্প।  লাল পরীর নেই জোড়া ডানা,নেই পিসতুত কোন মাসী  তার কানের দুলের দোলায় চেপে তার কাছে আমি আসি  রোদ ঝলমলে দুপুরের মত ঝলমলে তার হাসি  গালের মাঝে ছোট্ট তিলে কি যেন আছে রাশিরাশি  তার কথাবলা, তার হাটাচলা দেখতাম চেয়ে বসি  মন বলে এই, প্রাণ বলে এই, কেমনে পোষ মানে এই পাখি?  ঝটপট করে চোখ সরু করা কি যে এক চাহনী  আনমনা হলে তাকে আরো ভাল,লাগত তখনি  চেয়ে থাকতাম বিষ্ময় নিয়ে, রাগত যখনি  তার মলিনতায় অভিশাপ দিতাম-কেন নিষ্ঠুর তুমি ধরনী?  সবচেয়ে ভাল, মৌন মধুর ছিল এই লাল পরী  তার রুপের কাছে নস্যি ঠেকত নীল, সাদা সব পরী  এত রুপের পরেও অপরূপ হত, পড়ত যখন শাড়ি  অপরূপ সেই পরীর জন্য জোছনাটা বাজি ধরি  জোছনা কেন, সেতো অতি তুচ্ছ, চাঁদ তারা সব জড় করি  পায়ে ফেললেও হবে না বাজি, হিসেব নয় টাকা কড়ির  আমি গরীব, নেই কিছু দেয়ার মত  কি দেই, কি দেই, পাই নাকো খুজে  যা দিলে আমি তাকে পাবো বুঝে  খুজে চলি শতশত  কি জানি কি করে বুঝে যায় ভাষা  মেনে নেয় সে এই ভাল...

উপমাবিহীন গল্প (মোজাহিদুল ইসলাম পলাশ )

স্যার আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন "এই খাতাটা তোর? " পেছনে ইউনিভার্সিটি খাতার সবুজ মলাট। অতএব আমার খাতা। যা ভেবেছিলাম তাই সাদেক, বজলু, আশরাফুল, লিমা সহ ক্লাশের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করছে। ভেবেছিলাম প্রতিবারের মত এবারও হয়ত কোনরকম বেঁচে যাব কিন্তু হল না। ক্লাশ পরীক্ষায় সব থেকে কম নম্বর পেয়েছি তাই সবার শেষে আমার খাতাটা স্যার হাতে নিয়েছেন। স্যারকে কিছু না বলে উঠে দাঁড়িয়ে মাথা হেট করে রাখলাম। স্যার হুংকার দিয়ে উঠলেন, কিরে গাঁধার বাচ্চা কথা বলিস না কেন?, খাতাটা তোর না? আমি আরো একটু মাথাটা নামানোর চেষ্টা করলাম। কাজ হল না। সর্বোচ্চ মাথা হেট হয়েছে,আমার থুতনি জামার সাথে লেপ্টে আছে আর নিচে নামবে না। ইস আর কতক্ষণ আছে ক্লাশের, ঘন্টা পড়ে না কেন! ওই গাঁধার বাচ্চা মাথা তোল। বিশের মধ্যে তিন! ক্লাশ ওয়ানের বাচ্চাও তো পরীক্ষা দিলে পাঁচ-ছয় পাইতো। ক্লাশ ফোরে উঠছিস কিভাবে! লজ্জা করে না মানুষকে ক্লাশ ফোরে পড়ি বলতে। আমিতো জীবনে অনেক গাঁধা দেখছি, পড়াইছি কিন্তু তোদের মত এত বড় গাঁধা এই প্রথম। স্যার খাতাটা বাইরে ছুড়ে মারলেন। ক্লাশ পুরোপুরি নীরব, ইংরেজিতে যাকে বলে ...

মূল্য (মোজাহিদুল ইসলাম পলাশ )

একটা মেয়ের হাসি, তার চোখের পলক, তার চুড়ির শব্দ, শাড়িতে সৌন্দর্য, তার স্পর্ষ, তাকে একবার দেখতে পাওয়া, তার কন্ঠস্বর, রাগের সময় মুখোভঙ্গি, তার কান্না, তার চলার পথের বালুকণা, তার অভিমান, তার সব কিছুর মূল্য সেই মেয়ে কোন দিনই বুঝতে পারে না। তার মূল্য বোঝে শুধু তার প্রেমিক। এর মূল্য এতটাই যে রাজা রাজ্য ছেড়ে দেয়, ভাল ছাত্রটি চোখ মুছতে মুছতে কবিতা লিখতে শুরু করে, আটপৌড়ে স্বামীটি সংসার ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়, পাড়ার মোড়ে গোলাপ হাতে নির্লজ্জের মত ছেলেটা দাঁড়াতে পারে, মা বাবা পরিবারের থেকে আলাদা জগতে চলে যায় কোন ছেলে আর শরৎচন্দ্র দেবদাস লিখে ফেলে, কেউ কেউ নিজের জীবনটাই দিয়ে দেয় এর মূল্য বোঝাতে।

পড়াশোনার জানাজানি (গল্প) (মোজাহিদুল ইসলাম পলাশ )

অনেক অনেক দিন আগে এক দেশ ছিল।দেশটার ছাত্ররা পরীক্ষার আগে স্যারদের কাছ থেকে প্রশ্ন দাগিয়ে নিত। নোট বিক্রি হত। নোটে লেখা থাকত ১০০% কমন। আশ্চর্য জনক ভাবে নোটে যেগুলো থাকত,স্যারেরা বইয়ের যে প্রশ্নগুলো দাগিয়ে দিত সেগুলোর বেশির ভাগই পরীক্ষায় চলে আসত।  একদিন এক বোকা ছাত্র একবার না বুঝে বলে বসল স্যার আমরা তো পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন পেয়ে যাচ্ছি!? স্যার বেত মেরে ছাত্রটাকে আগে শায়েস্তা করল, তারপর রাগ থামলে বলল বদমাইস পুলা, তুমি পড়াশোনার কি জানো? এইটাই পড়ার নিয়ম।সেদিন সেই ছাত্রটি চুপ মেরে গেল। আর কিছু বলে নি। সেও সবার মত কয়েকটা দাগানো প্রশ্ন মুখস্ত করে পরীক্ষা দিয়ে ফাস্ট ডিভিসন পেয়ে গেল। সেই ছেলেটি একসময় বড় হল এবং ভাল চাকরি পেয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে দিল। তার ছেলে বড় হল । কিন্তু ততদিনে সেই দাগানো প্রশ্নের দিন শেষ, এসেছে সৃজনশীল প্রশ্নের যুগ।কিন্তু তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, তার সময়ের মত এখনও বই দাগিয়ে দিচ্ছে স্যারেরা। তার ছেলেকে প্রতিটা বিষয়ে আলাদা আলাদা করে মোটা মোটা নোট কিনে দিতে হচ্ছে, তারপর আলাদা করে নৈবিত্তিক প্রশ্নের নোটও কিনে দিতে হচ্ছে! তারউপর কলেজ শেষে কোচিং,কোচিং শেষে প্রাইভেট, প...